নেপালের নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা বালেন্দ্র (বালেন) শাহ দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই এক ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারে ১০০ দফার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।
নিচে বালেন্দ্র শাহ সরকারের নেওয়া প্রধান সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরা হলো:
১. ক্যাম্পাস থেকে ছাত্ররাজনীতি বিদায়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে সব ধরনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’।
২. প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান ও দলীয় প্রভাবমুক্তকরণ
সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষকদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা দলীয় আনুগত্য প্রকাশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জনসেবা খাতের দলীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলো বিলুপ্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৩. দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'যুদ্ধ' ঘোষণা
দুর্নীতি দমনে ১৯৯১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন নজরদারিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রি এবং তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষায় বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হবে।
৪. ছোট সরকার ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি
প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩০ থেকে কমিয়ে ১৭-তে নামিয়ে আনা হবে। অকেজো বোর্ড ও কমিটি বিলুপ্ত করা হবে এবং প্রতিটি সরকারি পদের জন্য নির্দিষ্ট KPI (Key Performance Indicator) নির্ধারণ করা হবে।
৫. ডিজিটাল রূপান্তর ও ‘এক কার্ডে’ সব সেবা
এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করেই সব সরকারি সেবা পাওয়া যাবে। পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নাগরিকত্ব সনদের মতো সেবাগুলো দুর্নীতিমুক্ত করতে ‘ফেসলেস’ বা সরাসরি সাক্ষাৎহীন ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেওয়া হবে।
৬. অর্থনীতি ও বিনিয়োগে গতি
বড় বিনিয়োগের জন্য ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ অনুমোদন ব্যবস্থা এবং মাত্র দুই দিনের মধ্যে স্টার্টআপ নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও নগর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা বালেন্দ্র শাহ মূলত তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি এবং সুশাসনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে নেপালের কয়েক দশকের পুরনো রাজনৈতিক ধারা পাল্টে দেওয়ার মিশন শুরু করেছেন।

মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!